moya and packetOthers 

জয়নগরের মোয়া প্রস্তুতকারকরা প্যাকেজিং সমস্যায় জেরবার

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: রপ্তানি সমস্যায় জেরবার জয়নগরের মোয়া- শিল্পীরা। প্যাকেজিংয়ের সমস্যা মিটছে না এ বছরও। স্থানীয় সূত্রের খবর, রপ্তানি সমস্যায় জর্জরিত জয়নগরের মোয়া প্রস্তুতকারকরা।এই মিষ্টি জিআই তকমা পেলেও এর প্যাকেজিং নিয়ে এখনও ভাবা হয়নি। এক্ষেত্রে জানা যায়,এই মিষ্টি নরম পাকের হয়ে থাকে। তার জন্য সাধারণপ্যাকেজিংয়ে এটি ফ্রেশ থাকতে পারে মাত্র ৫ দিন। যা খুবই কম সময় বলে দুশ্চিতা মোয়া তৈরির কারিগরদের।
স্থানীয় সূত্রে আরও খবর,শীতের আমেজে অন্য যে কোনও খাবারের মধ্যে জয়নগরের মোয়া অত্যন্ত জনপ্রিয়। খই ওগুড় দিয়ে তৈরি এই মিষ্টি অনেক বছর ধরে বাঙালির কাছে প্রিয়। এই মোয়া বেশিরভাগ তৈরি হয় দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার জয়নগর ও বহড়ুতে। রাজ্য ছাড়াও মোয়ার খ্যাতি রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এক্ষেত্রে জানা যায়, প্রতি বছরই শীতের মরশুমে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোয়া পৌঁছে দিয়ে থাকেন জয়নগরের মিষ্টি প্রস্তুতকারকরা। এই মোয়া পৌঁছতে হয় অতি দ্রুত, তা না হলে তা খুব স্বল্প সময়েই নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রতি বছরই রীতিমতো অসুবিধা হয় প্রস্তুতকারকদের। এ বছর করোনা আবহে মোয়া রপ্তানিতে আরও বেশি সমস্যা বেড়েছে। অত্যাধুনিক প্যাকেজিংয়ের কথা চললেও মেশিনের অভাব থাকায় তা দেরি হচ্ছে । যার জেরে রাজ্যের পাশাপাশি দেশের কোনও প্রান্তেই সময় মতো মোয়া পৌঁছে দিতে সক্ষম হচ্ছেন না প্রস্তুতকারকরা ।

অত্যাধুনিক প্যাকেজিং প্রয়োজন বলে দাবি ওঠে। এই প্যাকেজিং সংক্রান্ত একাধিক আলোচনার পর ইনস্টিউট অফ প্যাকেজিং থেকে ধারণা নিয়ে মোয়ার অত্যাধুনিক প্যাকেজ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এক্ষেত্রে ২৫ দিন পর্যন্ত মোয়া ফ্রেশ ও ভালো থাকতে পারে বলেও জানানো হয়। এরপর প্যাকেজিংয়ের জন্য জয়নগরে অত্যাধুনিক মেশিন বসানোর প্রোজেক্ট হাতে নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকদের একাংশেরঅভিযোগ, প্রোজেক্ট শুরু করতে বেঙ্গল খাদি ও ভিলেজ ইন্ডাস্ট্রিজ বোর্ড ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করিয়েছেন। স্টেট বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রোজেক্টটির জন্য ১.৪১ কোটি টাকা বরাদ্দও করা হয়। এখনও মেশিন বসানোর কাজ শেষ হয়নি। যা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে বেঙ্গল খাদি ও ভিলেজ ইন্ডাস্ট্রিজ বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমস্যার সমাধান করতে স্থানীয় প্রশাসনকে একটু সক্রিয় হতে হবে। জয়নগর মোয়া নির্মাণকারী সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে নিমতা রামকৃষ্ণ মিশন ২ একর জমি দান করবে বলে জানিয়েছিল,তবে কাজ এগোয়নি। সবমিলিয়ে সমস্যা বেড়েছে মোয়া প্রস্তুতকারকদের।

Related posts

Leave a Comment